Showing posts with label jamalpur. Show all posts
Showing posts with label jamalpur. Show all posts

লকডাউনে পথ কুকুরদের খাবার যোগাচ্ছে জামালপুরের একদল যুবক

No comments

Tuesday, March 31, 2020




প্রদীপ চট্টোপাধ্যয় ( বর্ধমান ) :- লকডাউন চলায় রাজ্যের অন্যান্য অংশের পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরেও বন্ধ রয়েছে হোটেল ,কারখানা ও অফিস কাছারি । শুনশান হয়ে রয়েছে পথঘাট।সেই কারণে  অভুক্ত থাকছিল পথ কুকুরা। এই বিষয়টি ব্যথিত  করে তোলে জামালপুর হাটতলা এলাকার একদল যুবককে।তারা সিদ্ধান্ত নেয় লকডাউনের কটাদিন তারাই সবাই মিলে পথ কুকুরদের দুবেলা  খাবারের  জোগান দেবে।  জামালপুর হাটতলা এলাকা নিবাসী কৌশিক পতিহার , প্রবীর নায়েক প্রমুখরা বলেন তারা  নিজেদের আর্থিক খরচায় পথ কুকুরদের জন্য খাবার রান্না করছেন ।
বড় গামলায় সেই খাবার ভরেনিয়ে জামালপুরের বিভিন্ন গ্রামে পৌছে গিয়ে তা পথ কুকুরদের খাওয়াচ্ছেন।  কৌশিক পতিহার বলেন, ‘জীবে প্রেম করে যেই জন - সেই জন সেবিছে ঈশ্বর ’ এই বাণীকে পাথেও করেই  তারা  পথ কুকুরদের খাবারে  অভাব মেটাচ্ছেন । এভাবেই লকডাউনের কটা দিন দুবেলা পথ কুকুরদের খাওয়ানোর কাজ চালিয়ে যাবার শপথও নিয়েছেন হাটতলার  যুবকরা।আপামোর জামালপুরবাসী হাটতলা এলাকার পশুপ্রেমি যুবকদের এমন কর্মকাণ্ডে তারিফ করেছেন । 


উড়িষ্যা থেকে রেললাইন ধরে হেঁটে পূর্ব বর্ধমানের মসাগ্রাম ও জৌগ্রামে পৌঁছালেন শয়ে শয়ে পরিযায়ী শ্রমীক - পাশে দাঁড়ালো প্রশাসন

No comments

Monday, March 30, 2020




প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) :- কডাউনের জেরে চরম দুর্বিপাকে পড়েগিয়েছেন  ভিন রাজ্য  ও ভিন জেলায় কাজ করতে যাওয়া  শ্রমিকরা। করোনা নিয়ে  কেন্দ্র নতুন নির্দেশিকা জারি করায় তাদের ভোগান্তি আরো বেড়ে গেছে। নিজের নিজের বাড়ি ফেরার জন্য হেঁটো  মাইলের পর মাইল পথ পেরিয়ে এসেও ওই সব শ্রমিকদের বাড়ি ফেরা আর হলনা ।পথই এখন তাঁদের জীবন, পথই এখন তাঁদের  মরণের  স্থান হয়ে উঠেছে।
শুনতে অবাক লাগলেও সোমবার বেলা পর্যন্ত  ২ নম্বর জাতীয় সড়কে পূর্ব বর্ধানের দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের আঝাপুর ও জৌগ্রামে  শুধুই শোনা যায়  বাড়ি ফিরতে চাওয়া শয়ে শয়ে  মানুষের আকুল আর্তি ।খবর পেয়ে জামালপুর থানার পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা সেখানে পৌছেযান ।ক্লান্ত পরিশ্রান্ত সকল পরিযায়ী শ্রমীদের জন্য পানীয়  জল ও খবারদাবারের ব্যবস্থ্যা করেন প্রশাসনের কর্তারা।আপাতত বাড়ি ফেরার চিন্তা ভাবনা ত্যাগ করে প্রায় ৫ শতাধীক পরিযায়ী শ্রমিকেকের ঠাঁই হয়েছে জৌগ্রামের একটি স্কুলে ।


রুটি রুজি যোগাড়ের জন্য পূর্ব বর্ধমানের প্রতিবেশী জেলার প্রায় ৫ শতাধীক  শ্রমিকের কেউ ভিন রাজ্যে  আবার কেউ ভিন  জেলায় কাজ করতে গিয়েছিলেন । করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষনা হবার পরেই এইসকল পরিযায়ী শ্রমিক  ও তাঁদের পরিবার সদস্যরা চরম দুর্বিপাকে পড়েযান । তাঁদের কাজকর্মও  বন্ধ হয়েযায়।  খাবার দাবার জোগড় করাও  দায় হয়েওঠে।  এমন পরিস্থিতি তৈরি হবার পরেই  তারা  যে যার নিজের বাড়ি ফেরার পথ খোঁজা শুরু করেদেন।উড়িষ্যার কটকে কাজ করতে যাওয়া পরিযায়ী  শ্রমিকরা নিজেদের বাড়ি ফেরার জন্য তিন দিন আগে রেলপথ ধরে  হাঁটা শুরু করেন । আর যে পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিন জেলায় কাজে গিয়েছিলেন  তারা বাড়ি ফেরার জন্য সড়ক পথ ধরে হাঁটা শুরু করেদেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের স্ত্রী ও শিশু সন্তানরাও হাঁটা পথে রওনা হতে বাধ্য হন । এইসব শ্রমিকদের বেশির ভাগজনই বিহার ও ঝাড়খন্ড রাজ্যের  বাসিন্দা। বাকিরা মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও  আসানসোলের বাসিন্দা। দীর্ঘ পথ হাঁটতে হাঁটতে  ক্লান্ত হয়ে পড়ে এই সকল পরিযায়ী  শ্রমিকদের  বড় একটি দল এদিন সকালে জৌগ্রামে জাতীয় সড়কের ধারে বসেপড়েন । অপর একটি দল মসাগ্রামে জাতীয় সড়কের আন্ডার পাসের নিচে বসে পড়েন ।


এই খবর পাবার পরেই ত্রাতার ভুমিকায় তাদের কাছে পৌছেযান জামালপুর থানার ওসি পুষ্পেন্দু জানা ও পঞ্চায়েত সমিতির  সভাপতি মেহেমুদ খান । ওসি পুষ্পেন্দু জানা ও মেহেমুদ খান দ্রুত ওই সকল শ্রমিকদের জন্য খাবার ও পানীয়  জলের ব্যবস্থা করেন ।
পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে সহযোগীতার হাত বাড়িযে দেয় জৌগ্রামের  শাসক দলের কর্মিরাও ।


উড়িষ্যায় কাজ করতে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকরা  এদিন জামালপুরের প্রশাসনিক কর্তাদের বলেন ,বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করেদেবার জন্য তারা উড়িষ্যা পুলিশের কাছে আবেদন করেছিলেন ।  কিন্তু উড়িষ্যা পুলিশ  তাঁদের সঙ্গে অত্যন্ত নির্মম ও খারাপ ব্যবহার করেছে। সামান্য খাবার দেওয়া তো দূরের কথা উল্টে  হুমকি ও হুঁশিয়ার দিয়ে তাঁদের দ্রুত উড়িষ্যা ছাড়ার কথা জানিয়ে দেওয়া হয় । সেকারণে বাধ্য হয়ে বাড়ি ফেরার জন্য রেলপথ ধরেই হাঁটা শুরু করতে বাধ্য হন ।
জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির  সভাপতি  মেহেমুদ খান বলেন , ‘উচ্চ কর্তৃপক্ষের  নির্দেশ না আসাপর্যন্ত সকল পরিযায়ী শ্রমিককে জৌগ্রামের  গোপালপুরের স্কুলে থাকতে বলা হয়েছে । তাঁদের খাবারদাবার, পানীয়  জল সবকিছুর ব্যবস্থা করা হয়েছে ।’  সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানাগেছে এদিনই একই রকম ভোগান্তির  শিকার হয়ে  বীরভূমের রামপুরহাটের  মোরগ্রামের ১৪ জন শ্রমিক  পৌছান মেমারিতে । মেমারি ১ ব্লক প্রশাসনও একই ভাবে ওই সকল পরিযায়ী  শ্রমিকদের জন্য সাহায্যের  হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ।
আপতক মেমারির বাগিলার একটি স্কুলে ঠাঁই হয়েছে ১৪ জন পরিযায়ী শ্রমিকের ।

হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা ব্যক্তিতের বাড়িতে লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে নোটিশ- দিতে হচ্ছে মুচলেখা

No comments


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ):- কোরোনা ভাইরাস সংক্রমণ রুখতে সর্বাত্মক  ভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্য সরকার ও রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর।একই ভাবে সংক্রমন রুখতে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ।বর্তমান পরিস্থিতিতে  জেলার কোথাও কেউ যাতে হোম কোয়ারেন্টিন ভঙ্গ না করেন তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে । জেলার যেসব এলাকার ব্যক্তিদের  হোম কোয়ারান্টিনে থাকতে  বালা হয়েছে তাদের  বাড়ির দেওয়ালে লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে নোটিশ ।শুধু নোটিশ লাগানোই নয় ওই ব্যক্তি ও তার পরিবার যাতে  নিরাপদে থাকতে পারে তার  ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।প্রশাসনের এই উদ্যোগের  তারিফ করেছেন  জেলার আপামোর  বাসিন্দা ।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে গোটা  রাজ্যের পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান জেলাার বাসিন্দা মহলেও  উদবেগ আতঙ্ক কম ছড়ায়নি ।উদ্ভুত এই পরিস্থিতির  মধ্যে যেসব ব্যক্তিরা  বিদেশ  কিংবা  ভিনরাজ্য থেকে জেলায় ফিরছেন তাদের নুন্যতম ১৪ দিন  নিজের গৃহে অন্তরীণ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তা সত্ত্বেও  ভিন রাজ্য ও ভিন দেশ থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা অনেকক্ষেত্রে  চিকিৎসকের সেই পরামর্শ  মানছেন না। তাদের কেউ কেউ বাজার করতে যেমন বেরিয়ে পড়ছেন তেমনই লোকজনের সাথেও মেলামেশাও করছেন।এরফলে ঝুঁকি বাড়ছে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ।এমনটা আটকাতেই জেলা প্রশাসনের নির্দেশে হোম  কোয়ারান্টিনে থাকতে বলা ব্যক্তিদের বাড়িতে বাড়িতে নোটিশ  শাটিয়ে দেওয়া শুরু হয়েছে । একই সঙ্গে ওই সকল ব্যক্তিদের হোম কোয়ারান্টিনে  থাকার মুচলেখাও দিতে হচ্ছে পুলিশের কাছে ।প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে নোটিশ লাগানো হচ্ছে তাতে  লেখা থাকছে কোয়ারান্টিনে থাকতে বলা ব্যক্তির নাম ।  এছাড়াও লেখা থাকছে ওই ব্যক্তির পরিবারে মোট  কতজন সদস্য আছেন এবং কতদিন ওই ব্যক্তিকে  হোম কোয়ারান্টিনে থাকতে বলা হয়েছে তার তথ্য।তবে পোস্টার মারানিয়েও আবার বিপত্তি তৈরি তৈরি হয়েছে । জেলার জামালপুরের  বত্রিশবিঘা গ্রামের বাসিন্দাদের অনেকেই মনেকরতে শুরু করেন যাদের বাড়িতে পোস্টার মারা হচ্ছে তারাই করোনা আক্রান্ত । 
এইসব নিয়ে গ্রামে উত্তেজনা তৈরি হয় ।  এই খবর নড়েচড়ে বসে জামালপুর ব্লক প্রশাসন । জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার ও  পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ  খান সোমবার ওই  গ্রামে পৌছে যান ।
তারা গ্রামের সকল মানুষজনকে বুঝিয়ে বলেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবেই বাইরে থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের বাড়িতে পোস্টার মেরে কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা বলা হচ্ছে  । কারুর  বাড়িতে পোস্টার মারা হয়েছে মানেই ওই বাড়ির কোন ব্যক্তি  করোনা আক্রান্ত হয়েছে এমনটা যারা মনেকরছেন তারা ভুলকরছেন ।এমন মিথ্যা গুজব না ছড়ানোর কথাও  প্রশাসনের কর্তারা  গ্রামসীদের জানিয়ে দেন ।’এরপরেই বত্রিশবিঘা গ্রামের মানুষজনের উদবেগ কাটে । অন্যদিকে আবার জেলার অনেক গ্রামের বাসিন্দারা বাঁশ দিয়ে গ্রামের রাস্তার আটকে দিয়েছেন ।তারা  বাইরের লোকজনকে যেমন গ্রামে ঢুকতে দিচ্ছেন না তেমনই গ্রামের লোক জনকে  বাইরে বেরহতে দিচ্ছেন না ।

যদিও জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে  সাধুবাদ জানিয়েছেন, রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ । তিনি নিজেও জেলার বিভিন্ন এলাকায়  ঘুরে ঘুরে সচেতনতা প্রচার চালানো শুরু করেছেন ।সবাইকে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের  নির্দিষ্ট করেদেওয়া পরামর্শ ও নিয়ক কানুন মেনে চলারও বার্তা দিচ্ছেন ।

করোনা আক্রান্ত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভূয়ো পোস্ট করার দায়ে মেমারিতে গ্রেফতার যুবক

No comments

Sunday, March 29, 2020



প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) :- সোশ্যাল মিডিয়ায় করোনা সংক্রমণ  বিষয়ক ভুয়ো পোস্ট করার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ । পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া ওই যুবকের  নাম সৈকত সিংহ ।মেমারির বোহার গ্রামের বাসিন্দা  পার্থসারথী মজুমদারের অভিযোগের পুলিশ ওই যুবককে গ্রেফতার করেছে । রবিবার ধৃতকে  পুলিশ পেশ করে বর্ধমান আদালতে । মেমারি নিবাসী তৃণমূলের জেলা যুবনেতা আশিস ঘোষদস্তিদার একই ধরনের মিথ্যা পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় করায় তার বিরুদ্ধেও পার্থসারথী বাবুর স্ত্রী মৈত্রেয়ী সিংহরায় অভিযোগ দারের করেছেন । করোনা সংক্রমণ  সংক্রান্ত ভূয়ো পোস্ট ঘিরে এখন রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে মেমারিতে ।

পুলিশ সূত্রে জানাগেছে , মৈত্রেয়ী  সিংহরায় মেমারির বোহার হাইস্কুলের শিক্ষিকা। মেমারির সিপিএম নেতা সনৎ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের পরিবারের  আত্মীয়। অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভূয়ো পোস্ট ছেড়ে বলা হচ্ছে,‘ সিপিএম নেতা সনৎ বন্দ্যোপাধ্যায়েয় আত্মীয়  পার্থসারথী বাবুর ছেলে কিছুদিন আগে লন্ডন থেকে বাড়িতে ফিরে ‘ঘাপটি’ মেরে বসে থাকে ।পরে  আশাকর্মীর চাপে সে  ডাক্তারের কাছে যায়। আর তার পরিবার থানার ভয়ে পালিয়েছে। শিক্ষিত মানুষের এই আচরণ লজ্জাজনক’। এই  পোস্ট নজরে আসার পরেই  শনিবার সকালে পার্থসারথিবাবু পুলিশকে বিষয়টি জানান ।তিনি পুলিশকে বলেন ,তাঁর ছেলে ব্রিটেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাচতে  তাঁর ছেলে সেখানেই ঘরবন্দি রয়েছে । অথচ এরকম ভুল পোস্ট করার  হচ্ছে । তার জন্যে তিনি ও তাঁর পরিবার বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন। এমন ভূয়ো পোস্ট ছড়ানোর ঘটনায় জড়িত চারজনের নামে তিনি ও তাঁর স্ত্রী থানায় অভিযোগ জানান। দায়ের হওয়া সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মেমারি থানার পুলিশ এক যুবকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ বাকিদের খোঁজ চালাচ্ছে  ।


করোনা আতঙ্কে পূর্ব বর্ধমান জেলার বাস্তব অবস্থা নিয়ে বৈঠক করলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি

No comments

Saturday, March 28, 2020


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) :-  গডাউন চললেও এই রাজ্যের গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক।  এই অবস্থায় শনিবার পূর্ব বর্ধমান জেলায় করোনা ভাইরাস সংক্রমন  সংক্রান্ত  বাস্তব অবস্থা  খতিয়ে দেখে গেলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র । এদিন বিকালে তিনি পৌছান মেমারি থানায় । সেখানে জেলার পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য আধিকারিকের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন ডিজি । পাশাপাশি তিনি মেমারির বিধায়ক নার্গিস বেগম ও মেমারি পুরসভার  পুরপ্রধান স্বপন বিষয়ীর সঙ্গে কথা বলে  কোথায় কোনও ঘাটতি আছে কি না তা  জানার চেষ্টা করেন। ডিজি বীরেন্দ্র মেমারির ব্যবসায়ী সমিতির  প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করে জানতে চান পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে  কোথাও কোন  ঘাটতি হচ্ছে কি না ।
লগডাউনের সূযোগ নিয়ে  কালোবাজারি কিংবা খাদ্য দ্রব্য মজুত করে রাখার প্রবণতা বেড়েছে কি সেবিষয়েও  ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিদের কাছে ডিজি জানতে  চান । বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় মেমারির  ব্যবসায়ী কল্যাণ কমিটির সম্পাদক রামকৃষ্ণ হাজরা বলেন ,ওষুধের  ঘাটতি ও  পরিবহণ সঙ্কট নিয়ে ডিজির সঙ্গে কথা হয়েছে। এই সমস্যা মেটানোর জন্য ডিজি থানা থেকে ‘পাস’ নেওয়ার কথা  বলেছেন। এ ছাড়াও যে কোনও প্রয়োজনে পুলিশ সাহায্য করবে বলে ডিজি  আশ্বাস দিয়ে গেছেন। যাবার সময়ে ডিজি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “কী অবস্থা চলছে, সেটা জানার জন্যে এসেছিলাম । পুলিশকে নিয়ে বৈঠক করেছি। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার জন্যে বলা হয়েছে। কালোবাজির বা মজুত করার প্রবণতা দেখাগেলে তা নির্মূল করার কথাও বলা  হয়েছে।

করোনা মোকাবিলায় স্কলারশিপের টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করেদিল জলপাইগুড়ি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র

No comments




প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) :- রোনা মোকাবিলায় আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবার জন্য রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে রাজ্যে দৃষ্টান্ত গড়ল
 জলপাইগুড়ি গভর্মেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র শুভম ঘোষ।স্কলারশিপ বাবদ পাওয়া টাকার কিছুটা পড়াশুনার জন্য রেখেদিয়ে বাকি ৫ হাজার টাকা  শুভম দান করেদিল মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে । করোনা সংক্রমন মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের পাশে দাঁড়াতে মেধাবী ছাত্র শুভমের এমন ভাবনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রশাসনের কর্তারা  ।


পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার পাঁচড়া গ্রামে   বাড়ি ছাত্র শুভম ঘোষের। তাঁর বাবা শৈলেন ঘোষ পেশায় চাষি। ছোট বয়স থেকেই শুভম পড়াশুনায় অত্যন্ত মেধাবী।সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় নিয়ে পড়াশুনার জন্য  সে  ভর্তি হয় জলপাইগুড়ি গভর্মেন্ট  ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে।করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রুখতে রাজ্য সরকার সমস্ত স্কুল , কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার  নির্দেশ দেবার পর শুভম পাঁচড়া গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসে ।শুভম জানিয়েছে ,বাড়িতে ফিরে এসে সে জানতে পারে করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন রেখেছেন।এমনটা জানার পরেই  সে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য মনস্থির করেফেলে।শুভম জানিয়েছে ,সে কলেজ থেকে স্কলারশিপ বাবদ যে অর্থ পেয়েছিল তার কিছুটা পড়াশুনার জন্য রেখেদিয়ে বাকি ৫ হাজার টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেবার সিদ্ধান্ত নেয় । শুক্রবার বিকালে জামালপুর  ব্লকের বিডিও অফিসে পৌছে বিডিওর সহযোগীতায় ৫ হাজার টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করেছে বলে শুভম জানিয়েছে ।একই সঙ্গে সে এই কঠিন সময়ে সকলকে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাজ্যের সকল ছাত্রদের উদ্দেশ্যে আবেদন  রেখেছে।


জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন ,মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করার জন্য ছাত্র শুভম তাঁর বাবাকে সঙ্গে নিয়ে  বিডিও অফিসে হাজির হয়। তার আবেদন শুনে মুখমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করার কাজে তাঁকে সর্বতভাবে সহযোগীতা করা হয়েছে । বিডিও বলেন, এই দূর্যোগের সময়ে নিজের স্কলারশিপের টাকা মু্খ্যন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে  দান করে শুভম শুধু যে দৃষ্টান্ত গড়লো এমনটাই নয়। শুভম ছাত্র সমাজের কাছেও ভাল বার্তা দিল । শুভম কে দেখে রাজ্যের অন্য ছাত্ররাও যদি অর্থ দান করে তবে করোনা মোকাবিলায় রাজ্য সরকার আরো  নানা পদক্ষেপ গ্রহনে সক্ষম হবে ।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই লগডাউন কার্যকর করতে মানবিক ভূমিকায় পথে নামলো পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ

No comments



প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) :- মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই লগডাউন কার্যকর করতে  বল প্রয়োগের পথ ছাড়লো পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ।লোকজনকে পিটিয়ে লগডাউন কার্যকর করার প্রচেষ্টা শিকেয় তুলে  শুক্রবার সকল থেকে মানবিক ভূমিকায় পুলিশ পথে নামে ।একদিকে জেলার পুলিশ সুপার  বিভিন্ন বাজারে পৌছেগিয়ে সবাইকে নির্দিষ্ট দূরত্বে  দাড়িয়ে বাজার হাট করার পরামর্শ  দিলেন। অন্যদিকে  সিভিক ভল্যান্টিয়াররা বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে পৌছে গিয়ে হাতজোড় করে সবাইকে লগডাউনে সামিল হবার অনুরোধ করলেন । পুলিশের এই ভূমিকায় সন্তুষ্ট হয়ে গ্রামের মানুষজন নিজেরাই যে যার ঘরে ঢুকে পড়লেন ।
জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় এদিন সাত সকালেই নিজের বাহিনী সঙ্গে নিয়ে বর্ধমান শহরের বিভিন্ন সবজি বাজার ঘুরে দেখেন ।সবজির দরদাম নিয়ে খোঁজখবর নেবার পাশাপাশি তিনি বাজারে উপস্থিত সকলকে নিদিষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়ে বাজার করতে বললেন। কেন নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়াতে হবে তার ব্যক্ষ্যাও জনসমক্ষে তুলে ধরেন পুলিশ সুপার । একই সঙ্গে তিনি বাজারে উপস্থিত সকল মানুষ জনকে বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায়  অযথা বাড়ির বাইরে বের না হয়ে  সবাই লকডাউনে সামিল হন ।

অন্যদিকে এদিনই জামালপুর থানার পুলিশ আধিকারিকদের  সঙ্গেই সিভিক ভল্যান্টিয়ারা
পৌছে যান জামালপুরের  বিভিন্ন গ্রামে । যেখানে তারা মানুষজনকে বাইরে  ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন  সেখানেই দাঁড়িয়ে পড়েছেন । ওই সব মানুষজনের সামনে হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে সিভিক ভল্যান্টিয়াররা করনা ভাইরাস  সংক্রমণের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরেন । একই সঙ্গে তারা গ্রামবাসীদের  বুঝিয়ে বলেন কেন সবাইকে লগডাউনে  সামিল হতে হবে । সিভিক ভল্যান্টিয়ারদের এমন অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারেননি জামালপুরের মুহিন্দর গ্রাম সহ অন্য সব গ্রামের  বাসিন্দারা ।
তারা আর এক মুহুর্ত দেরি না করে যেযার ঘরে  ঢুকে পড়েন ।জেলার অন্যান থানার পাশাপাশি রায়না থানার পুলিশও  মানবিক ভূমিকায় পথে নেমেছে । এদিন  রান্না করা খাবার নিয়ে বিভিন্ন গরিব মহল্লায় পৌছে যান পুলিশ কর্মীরা ।সেখানকার যারাই  খাবার সংগ্রহ করেন তাদের লগডাউন  মেনে চলার অনুরোধ করেন ওসি পুলক ঘোষ। লগডাউনের কটাদিন সমস্ত গরিব মহল্লায় দুপুরে ও রাত্রে খাবার পৌছে দেবার সিদ্ধান্তও নিয়েছে রায়না থানা । 


করোনা চিকিৎসায় ১০ লক্ষ টাকা দিলেন জামালপুরের বাম বিধায়ক সমর হাজরা

No comments

Wednesday, March 25, 2020



প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) :- রোনা ভাইরাস সংক্রমন রুখতে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে লকডাউন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচার করে লগডাউন কার্যকর করার জন্য সকল দেশবাসীর কাছে আবেদন রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ।পাশাপাশি করোনা সংক্রমণ মোকাবিলা ও সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসার পরিকাঠামো অন্নয়নের জন্য এই রাজ্যের  সাত  বিজেপি সাংসদ নিজেদের তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ করেছেন । সব মিলিয়ে সাত সাসদের বরাদ্দ করা অর্থের পরিমান প্রায়  ৭ কোটি টাকা । বরারাদ্দ করা অর্থ নিজ নিজ এলাকার জেলা শাসকের কাছে পৌছে দেবার কথা ইতিমধ্যেই ঘোষনা করেছেন সাত বিজেপি সাংসদ ।বর্ধমান -দুর্গাপুরের সাংসদ সুরিন্দর সিং আহলুওয়ালিয়া  দুই বর্ধমান জেলার জন্য যে  ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা   দিয়েছেন তার বেশিরভাগটাই পাচ্ছে পূর্ব বর্ধমান । আহলুওয়ালিয়ার পর এবার পূর্ব  বর্ধমানের  জামালপুর  বিধানসভার বাম বিধায়ক সমর হাজরা একই  খাতে নিজের বিধায়ক তহবিল থেকে  অর্থ বরাদ্দ করলেন ।
বুধবার জেলা প্রশাসন এবং  বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষে চিঠি দিয়ে ১০ লক্ষ টাকা  বরাদ্দের কথা জানিয়ে দিয়েছেন সমর হাজরা । এদিন সমর হাজরা বলেন , এলাকার উন্নয়ন খাতে বিধায়কদের ৬০ লক্ষ টাকা পান । সেই টাকা থেকেই  ১০ লক্ষ টাকা করোনা সংক্রমণ মোকাবিলা ও বর্ধমান হাসপাতালের  চিকিৎসা পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য  তিনি বরাদ্দ করেলেন । সমর বাবু জানিয়েছেন ,তাঁর অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি  বিধানসভার বাম দলনেতা সুজন চক্রবর্তী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেও জানিয়ে দিয়েছেন । এদিন জেলা প্রশাসনকেও চিঠি দিয়ে তা জানিয়ে দিলেন ।

গান গেয়ে গেয়ে সবাইকে লকডাউনে সামিল করাচ্ছেন ওষুধের দোকানের কর্মচারী সুকান্ত

No comments

Tuesday, March 24, 2020



প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) :- পুলিশকে বল প্রয়োগের পথে হাঁটতে হলেও নিজের স্বরচিত গানের মধ্যমেই নাগরিকদের  লগডাউনে সামিল করাচ্ছেন সামান্য একজন ওষুধের দোকানের  কর্মচারী। শুনতে অবাক লাগলেও পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার আঝাপুর গ্রাম নিবাসী সুকান্ত ঘোষের এমন  কর্মকাণ্ডের তারিফ নাকরে পারেন নি প্রশাসনিক কর্তারা ।

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে জেরবার হয়েরয়েছে  ভারত সহ গোটা  বিশ্ব ।প্রতিদিন ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা যেমন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তেমনই বেড়ে চলেছে মৃতের সংখ্যা । ভাইরাস সংক্রমন  প্রতিহত করতে দেশের অন্যান রাজ্যের মত পশ্চিমবঙ্গ সরকারও ৩১ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যে  লকডাউন ঘোষনা করেছে।প্রাধানমন্ত্রী  নরেন্দ্র মোদি এবং এই রাজ্যের  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারে বারে নাগরিকদের কাছে লকডাউন কার্যকর করার আবেদন জানিয়ে চলেছেন । কিন্তু তা সত্ত্বেও একাংশ নাগরিক  লগডাউন কার্যকর করার ব্যাপারে চরম উদাসীনতা দেখিয়ে চলেছেন।

লকডাউনের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার এবং তৃতীয় দিন বুধবার  বেলা পর্যন্ত জেলার বহু জায়গায় খোলা থাকে দোকান বাজার । মঙ্গলবার বর্ধমানের দেওয়ানদিঘী থানার  ভান্ডারডিহি বাজার , বর্ধমানের বড়নীলপুর সব্জিবাজার , জামালপুরের হাট ও বেশকিছু  দোকান বাজারে বহু মানুষ ভিড জমান ।লোকে লোকারন্য থাকে এই সব এলাকার বাজার হাট । একইভাবে  নাগরিকরা বর্ধমান শহর সহ জেলার অন্যান এলাকার সড়কপথেও স্বাভাবিক যাতায়াত শুরু করেদেন । জমায়েত না করার জন্য  প্রশাসনের তরফে  মাইকিং করে প্রচার চালানো হয় । কিন্তু তার পরেও  পরিস্থিতির বদল না হওয়ায় পুলিশ বাধ্য হয়ে  লাঠি উঁচিয়ে পথে নেমে বলপ্রয়োগ করে লকডাউন কার্যকর করার পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করতে বাধ্য হয়।

অপ্রত্যাশিত এমন পরিস্থিতিতে কিছু একটা  করে দেখানোর জন্য উদগ্রিব হয়ে পড়েন মসাগ্রাম স্টেশান বাজারে ওষুধের দোকানের কর্মচারী  সুকান্ত ঘোষ । করোনা ভাইরাসের  ভয়াবহতা ও লগডাউন নিয়ে  জনসাধারনকে সচেতন করতে তিনি অনবদ্য ভূমিকা পালনে সামিল হন । মারণ ভাইরাস করোনা সংক্রমন মোকাবিলায় জারিকরা  লকডাউন নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা জাগাতে তিনি নিজেই গান লিখে গানের শুর দিয়ে গাওয়া শুরু করে দিয়েছেন ।মঙ্গলবার  সকাল থেকে মসাগ্রাম স্টেশান বাজারে থাকা অমিত কুমার মল্লিকের ওষুধের দোকানে  যারাই ওষুধ কিনতে আসছেন তাদের সামনে সেই গান গেয়ে সুকান্ত ঘোষ  করোনা ভাইরার সংক্রমণ নিয়ে সচেতনতা জাগিয়ে  চলেন। পাশাপাশি পথ চলতি  সকল মানুষজনকে তিনি  লকডাউনে সামিল হবার  বার্তাও দিয়ে চলেন।
এদিনও এই কাজ চালিয়ে যান সুকান্ত ঘোষ ।

কী গান গাইলো সুকান্ত , দেখতে ক্লিক করুন লেখার উপর

সুকান্ত ঘোষের এমন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর  মজুমদার। তিনি বলেন ,করোনা সংক্রমণ এখন বিশ্ব  মহামারির আকার নিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে  করোনা সংক্রমণ রোখার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার যা কিছু গাইড লাইন বেঁধে দিয়েছে এবং সতর্কতা বার্তা দিয়েছে  তার সবটাই গানের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন সুকান্ত বাবু । ওনার গান শুনে নাগরিকরা সতর্কতা অবলম্বনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। লগডাউনে যারা অংশ নিচ্ছেন  আখেরে তারাই উপকৃত হবেন । কঠিন এই পরিস্থিতিতে প্রকৃত অর্থেই সমাজের স্বার্থে সুকান্ত বাবু অনবদ্য ভূমিকা নিয়েছেন বলে বিডিও এদিন মন্তব্য করেছেন। মসাগ্রাম এলাকার বাসিন্দারা বাসিন্দারাও জানালেন তাঁরা সুকান্ত ঘোষের গান শুনে উপলব্ধি করেছেন লগডাউন অমান্য করা যাবে না । তাই তারা অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে আর না বের হবার  সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ।


লকডাউনকে বাংলা বন্ধ ধরেনিয়ে পূর্ব বর্ধমানের হাটে বাজারে ঢল নামলো মানুষের

No comments

Monday, March 23, 2020


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) :- রোনা সংক্রমন রুখতে  সোমবার বিকাল ৫ টা থেকে  রাজ্যে  শুরু হয়েছে ‘লকডাউন’। আগামী ৭ দিনের জন্য এই ‘লকডাউন’  চলবে বলে ঘোষনা করেছে রাজ্য সরকার ।কিন্তু লকডাউন আদতে কি সেটাই এখনও বুঝে উঠতে পারেন নি পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রত্যান্ত গ্রামের মানুষজন। তারা অতীতে রাজনৈতিক দলের ডাকা বন্ধের সঙ্গে  গুলিয়ে ফেলেছে লকডাউন কে ।
লকডাউনের আশল উদ্দেশ্য নিয়েই অন্ধকারে রয়েগেছেন জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষজন ।  তারা লকডাউন কে বন্ধ বলে  মনেকরে নেওয়ায়  তৈরি হওয়াতেই বিপত্তি ঘটেছে। ৭ দিন ধরে রাজ্যে  বন্ধ চলবে বলে ধরে নিয়ে সোমবার  সকালথেকেই  কাতারে কাতারে মানুষ গ্রামের পৌছাতে শুরু করেন হাটে বাজারে। যাদের বেশিরভাগের মুখে মাস্কতো  ছিলই না, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের  ব্যবহার বিধি নিয়েও  তাঁরা   ওয়াকিবহাল নন। বাজার , হাট, মুদিখানা দোকান সর্বত্র এমন  মানুষজনের  ভিড় আটকানোটাই এখন প্রশাসনের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ।  করোনা সংক্রমন থেকে বাঁচতে যারা জনতা কার্ফু  সমর্থন করলেন তারাই আবার  লকডাউন ঘোষনা হবার পর এইভাবে হাটেবাজারে ভিড় জমানোয় উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল । যদিও ৭ দিনের লকডাউনে যে সব্জি , মুদিখানা কিংবা মাছের বাজার যে বন্ধ থাকবে না তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার ।এই বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষের দাবি করেছেন সচেতন মানুষজন ।

জেলা শাসক বিজয় ভারতি এদিনও স্পষ্ট জানিয়েদেন , মারণ ব্যাধি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে  বাঁচতে সবাইকে  সচেতনতনা মানতে হবে ।লকডাউনের সঙ্গে যারা বন্ধের তুলনা করছেন তারা ভুল করছেন ।জরুরী ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য  সামগ্রী দোকান খোলা রাখার ব্যাপারে কোন বিধি নিষেধ আরোপ করেনি সরকার ।খুব জরুরী প্রয়োজন ছাড়া এই কটাদিন  জেলাবাসীকে  ঘরথেকে না বেরহবার আবেদন জানিয়েছেন । পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় এদিন ফের একবার স্পষ্ট করেদিয়েছেন , লকডাউনের কটাদিন কোথাও  সাত জনের বেশী মানুষকে  জমায়েত করে থাকতে দেওয়া হবে না।যারা বিধি নিষেধ মানবেন না তাদের আইনি শাস্তি ভোগ করতে হবে । 

Follow this link to join my WhatsApp group: https://chat.whatsapp.com/FYlbLvroXai8o0PBcfdA7N

রায়নায় নিজের বাবাকে চড়িয়ে মারলো ছেলে

No comments

Sunday, March 22, 2020


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) :- পাটে চড় কষিয়ে নিজের বাবাকে প্রাণে মারার অভিযোগ উঠলো ছেলের   বিরুদ্ধে ।  মৃতর নাম  সুশান্ত মালিক (৫৫)। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি রবিবার  দুপুরে ঘটেছে  পূর্ব বর্ধমানের রায়নার গোপিনাথপুর গ্রামে । মৃতদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি  পুলিশ অভিযুক্ত ছেলে অসীত মালিককে আটক করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ।অভিযুক্তের দৃষ্টান্ত মূলক  শাস্তির দাবি করেছেন মৃতর প্রতিবেশীরা ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে , রায়নার  শ্যামসুন্দর পঞ্চায়েতের গোপিনাথপুর গ্রামের  মাঝিপুকুর পাড়ায় বসবাস করেন মালিক পরিবার।পরিবারের সকলেই পেশায় দিনমজুর ।মৃতর দাদা দেবু মালিক জানিয়েছেন,তাঁর ভাই সুশান্তর ছেলে অসীতের প্রথম পক্ষের স্ত্রী  সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় । অসীত দ্বিতীয় বার  বিয়ে  করে। এদিন দুপুরে বাড়িতেই  দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে অসীতের  ঝগড়া অশান্তি চরমে ওঠে । তা দেখে থাকতে না পেরে সুশান্ত  ঝগড়া থামাতে যায় । তখনই ভাইপো অসীত তাঁর বাবার গালে সপাটে চড় কষিয়ে  মারে । আশঙ্কাজনক অবস্থায় সেখানেই লুটিয়ে  পড়ে সুশান্ত । তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত রায়না ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থকেন্দ্রে  নিয়ে যাওয়া হয় ।  সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুশান্ত মালিককে মৃত ঘোষনা করেন । পুলিশ  জানিয়েছে , মৃতর ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে । উদ্ধার হওয়া মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোমবার বর্ধমান হাসপাতাল পুলিশ মর্গে পাঠানো হবে । পরিবারে তরফে কেউ এখনও অভিযোগ দায়ের করেনি । অভিযোগ  দায়ের হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে । 

বিয়ের ৯ দিনের মাথায় শ্বশুর বাড়িতে আত্মঘাতী সিভিক ভল্যান্টিয়ারের স্ত্রী

No comments

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) :- বিয়ের নয় দিনের মাথায়  শ্বশুর বাড়িতেই রহস্যজনক কারণে আত্মঘাতী হলেন এক সিভিক ভল্যান্টিয়ারের স্ত্রী। মৃতার নাম রিয়া ঘোষ (১৮)।ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের চকদিঘী অঞ্চলের ফকিরসাহেব তলা এলাকায় । রবিবার বর্ধমান হাসপাতাল পুলিশ মর্গে  বধূর মৃতদেহের  ময়নাতদন্ত হয় । 
কি কারণে বধূ আত্মঘাতী  হল তার তদন্ত জামালপুর থানার পুলিশ শুরু করেছে । 


পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানাগেছে ,রিয়া ঘোষের বাড়ি বর্ধমান শহরে। ৯ দিন আগে  জামালপুরের ফকিরসাহেব তলা নিবাসী শ্রীমন্ত ঘোষের সঙ্গে  বিয়ে হয় রিয়ার। শ্রীমন্ত জামালপুর থানার সিভিক ভল্যান্টিয়ার । শনিবার বিকালে  নিজের কাজে শ্রীমন্ত বাড়ি থেকে বাইরে বের হয় । পরিবার সদস্যরা জানিয়েছেন ওই সময়ে সবার অলক্ষে গলায় কাপড়ের ফাঁস লাগিয়ে  শ্বশুর বাড়ির ঘরের শিলিং ফ্যানে ঝুলেপড়ে রিয়া ।এমন ঘটনা  দেখার পরেই শ্বশুর বাড়ির লোকজন রিয়াকে উদ্ধার করে  জামালপুর  ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থকেন্দ্রে নিয়েযায় ।সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিয়াকে  মৃত ঘোষনা করেন। কেন রিয়া এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটালো তার কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না দুই পরিবারেরই লোকজন । পুলিশ এই মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে । 


অন্যদিকে শনিবার গভীর রাতে শ্বশুর বাড়িতেই অগ্নিদগ্ধ হন  চকদিঘী অঞ্চলের অপর এক বধূ । শ্বশুর বাড়ির লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় বধূ  মধুমিতা ঘোষ (২৭) কে উদ্ধার  জামালপুর  ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থকেন্দ্রে  নিয়েযায় । সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বধূকে  মৃত ঘোষনা করেন। চকদিঘী অঞ্চলের শুকপুর গ্রামে বধূর শ্বশুর বাড়ি ।বধূর  স্বামী দেবরাজ ঘোষ জানিয়েছেন, শনিবার  রাতে তিনি সহ বাড়ির  সবাই  ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।  সেই সময়ে কাউকে কিছু  বুঝতে না দিয়ে মধুমিতা নিজের গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় ।পুলিশ জানিয়েছে বধূ মধুমিতার মৃত্যুর  ঘটনার তদন্ত  শুরু হয়েছে । 



করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে মাটি খুঁড়ে বেরকরা পোড়া কাঠকয়লার তিলক পরার হিড়িক পরেগেছে পূর্ব বর্ধমানে

No comments

Saturday, March 21, 2020



প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) :- রোনা ভারাস সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্ক ছড়াতেই  গুজবের জরে  বেড়ে গিয়েছিল গোমুত্র ও
 গোবরের কদর। এবার বাড়ির ঈশান কোনে গর্ত খুঁড়ে  বেরকরা কাঠকয়লা দিয়ে করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর  হিড়িক পড়েগেছে ।বাড়িতে থাকা ছোট পাথরের উপর সেই কাঠকয়লা ঘসে নিয়ে তার তিলক কপালে লাগালেই নাকি করোনা আক্রান্ত হতে হবেনা ।এই গুজবে ভর করেই পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষজন শুরু করে দিয়েছেন কপালে  কাঠকয়লা তিলক লাগানো । মুখে মাস্ক ব্যবহার শিকেয় তুলে গ্রামবাসীরা করোনার দাওয়াই হিসাবে পোড়া কাঠের তিলক পরাতে ভরসা করায় উৎকন্ঠা বেড়েছে চিকিৎসক  মহলে । 
 কাঠকয়লার তিলক নিয়ে গুজবের  মারাত্বক প্রভাব পড়েছে হুগলী ও পূর্ব বর্ধমান জেলায়। পূর্ব বর্ধমান  জেলার  জামালপুর ব্লকের পাঁচড়া,বেরুগ্রাম,আঝাপুর,কোলসরা,আবুহাটি সহ রায়নার উচালন ,সেহারাবাজার এবং আউশগ্রাম ব্লকের অভিরামপুরের বাসিন্দারা সবাই এখন মেতেছেন কপালে পোড়া কাঠকয়লার তিলক পরাতে । শনিবার  জামালপুরে পাঁচড়া ও  বেরুগ্রাম এলাকায় পৌছে  দেখাযায় অনেক বাসিন্দা তাঁদের বাড়ির ঈশান কোনে গর্ত খুঁড়তে ব্যস্ত ।কেউ কেউ গর্ত খুঁড়ে পাচ্ছেন পোড়া কাঠের টুকরো। আবার কেউ কেউ তাঁদের  বাড়ির  ঈশান কোনে গর্ত খুঁড়েতেই  পোড়া কাঠ ছাড়াও  বেরিয়ে আসছে  সিঁদুরের পাতা ও কড়ি । সবকিছুই স্বযত্নে তুলে নিয়ে ওইসব বাসিন্দারা ঘরে চলে যাচ্ছেন । একই ভাবে পোড়া কাঠের টুকরো অর্থাৎ কঠকয়লা নিয়ে ঘরে ঢুকেপড়েন  জামালপুরের পাঁচড়া গ্রামের  বাসিন্দা সুমন চট্টোপাধ্যায়। এদের দেখাদেখি প্রতিবেশীরাও 
পোড়া কাঠকয়লা উদ্ধারে নেমে পড়েন । 

পোড়া কাঠকয়লার তিলক কি দাওয়াইয়েয়  কাজ করবে তা সুমন চট্টোপাধ্যায়ের কাছে  জানতে চাওয়া হলে তিনি আজব কথা শোনালেন । সুমনবাবু  বলেন,হুগলী নিবাসী  তাঁদের এক আত্মীয় জানিয়েছেন ‘তারকেশ্বর মন্দিরের এক পুরোহিত স্বপ্নাদেশ পেয়েছেন প্রতেক বাসিন্দা তাদের  বাড়ির সদর দরজার ডানদিকে গর্ত খুঁড়লেই পোড়া কাঠ অর্থাৎ কাঠকয়লা মিলবে। সেই কাঠ কয়লার টুকরো গঙ্গাজল সহ পাথরে ঘসে কপালে তিলক পরলেই  করোনা সংক্রমণ থেকে রেহাই মিলবে। করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাবার এটাই ঠাকুরের ওষুধ। ’সুমন বাবু স্পষ্ট জানিয়েদেন 

 এই কথা শোনার পর তিনিও তা মানার  সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।আউশগ্রামের অভিরামপুর 
গ্রামের বধূ মামনি রজক এদিন আবার যা বললেন তা জানলে কার্যত  বিশ্বের তাবড় চিকিৎসকরাও চমকে উঠবেন ।  মামনিদেবী বলেন ,‘করোনা সংক্রমণ রোধে কি করতে হবে তা নাকি ঠাকুর এক পুরোহিতকে  স্বপ্নাদেশে জানিয়ে দিয়েছে । সেই স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী  সূর্য ওঠার আগে বাড়ির তুলসী মন্দির কিংবা বাড়ির দরজার ডানদিকে গর্ত খোঁড়া শুরু করেদিতে হবে ।গর্ত খুঁড়লেই পোড়া কাঠ মিলবে।  সেই পোড়া কাঠের টুকরো গুড়িয়ে নিয়ে গঙ্গাজল দিয়ে মিশিয়ে কপালে তিলক পরলে আর  করোনা আক্রান্ত হতে হবে না ।’ মামনিদেবী এদিন নিজে সেটাই করেছেন বলে জানিয়েজেন । তিনি নিজের কপালে ওই তিলক পরেছেন এবং বাড়ির সবাইকেও একই তিলক পরিয়েছেন । প্রতিবেশীরাও একই রকম ভাবে কাঠকয়লার তিলক পরতে বলেছেন বলে মামনিদেবী জানিয়েছেন  ।
মামনিদেবীর প্রতিবেশী পরিবারের বধূ মিঠু মুখোপাধ্যায় বলেন , করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য তিনি এদিন  বাড়ির দরজার ডানদিকে গর্ত খুঁড়েতেই পোড়া কাঠের টুকরো পান ।  কাঁসার পাত্রে গঙ্গাজল ও  তুলসী পাতা দিয়ে তারমধ্যে ওই  পোড়া কাঠের টুকরোটি  ফেলেদিয়ে করোনা থেকে মুক্তি চেয়ে ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করেন । প্রার্থনা শেষে ওই কাঠকয়লার গুঁড়োর তিলক নিজে কপালে পরেন এবং বাড়ির স্বামী ও  সন্তানদের কপালেও তিলক পরিয়ে দিয়েছেন। 
দুপুর গড়ানোর পর এই গুজব জেলার সর্বত্র  দাবানলের  মত ছড়িয়ে পড়ে । সর্বত্র জয়ধ্বনি  দিয়ে পোড়া কাঠকয়লার  তিলক কপালে পরার হিড়িক পড়েযায়। করোনার দাওয়াই হিসাবে গ্রামে গঞ্জের মানুষজন কপালে পোড়া কাঠকয়লার তিলক পরতে অতি  উৎসাহী হয়েপড়ায় দুশ্চিন্ত বেড়েছে স্বাস্থ কর্তাদের । 
শিক্ষারত্ন পুরস্কার পাওয়া পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্য তাপস কুমার কার্ফা এদিন বলেন সবটাই বুজরুকি কাণ্ড ঘটছে ।পোড়া কাঠকয়লার তিলক পরে করোনা সংক্রমণ থেকে রেহাই মিলতে পারে না । বরং করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে সবাইকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এবং চিকিৎসকদের দেওয়া   পরামর্শকে গুরুত্ব দিতে । চিকিৎসকদের পরামর্শই  সবাইকে মেনে চলতে হবে । মুখে মাস্ক ব্যবহার করা , এক জায়গায় ভিড়ভাট্টা না করা এবং নিজের হাত সহ গোটা শরীর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখাই  করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র পথ বলে তাপস কার্ফা জানিয়েছেন । বিগত কয়েকদিন ধরে জনসাধারণের উদ্দেশ্যে এই একই উপদেশ দিয়ে চলেছেন রাজ্যের বিশিষ্ঠ  চিকিৎসক ও স্বাস্থ দপ্তরের কর্তারা ।কোন গুজবে কান না দিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এবং চিকিৎসকদের পরামর্শকে গুরুত্ব দিতে হবে এই অনুরোধ নাগরিকদের কাছে রেখেছেন চিকিৎসকরা ।  ।

করোনা সংক্রমণ রুখতে পুলিশেকে সঙ্গে নিয়ে রেল স্টেশান চত্তরে পর্যটক দলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলেন চিকিৎসকরা

No comments

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) :- রোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে রাজ্য সরকারের  নির্দেশে পর্যটকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে  স্বাস্থ দফতর ।  
সরকারী সেই নির্দেশ কার্যকর করতে শনিবার সাতসকালেই হাওড়া - বর্ধমান কর্ড শাখার পূর্ব বর্ধমানের মসাগ্রাম স্টেশানে পৌছেযান জামালপুর ব্লক হাসপাতালের চিকিৎসক  স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশ আধিকারিকরা।ভিন রাজ্যে ভ্রমন সেরে ফেরত আসা পর্যটকদের দাঁড় করিয়ে সেখানেই হল স্বাস্থ্য পরীক্ষা। 
এদিন সকাল ৮টা ১০ মিনিট নাগদ ডাউন লোকল ট্রেন থেকে মসাগ্রামে নামেন সিমলা ,কুলু ও মানালি থেকে ফিরেআসা  একদল  পর্যটক । তারা ট্রেন থেকে নামতেই স্টেশান চত্ত্বরে ক্যাম্প করে বসে থাকা চিকিৎসক ও পুলিশ অফিসাররা তাদের  পথ আটকান ।চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সকল পর্যটকের  স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন । পর্যটকের নাম , ঠিকানা ও ফোন নম্বার নথিভুক্তও করা হয়  । 
জামালপুর ব্লক স্বাস্থকেন্দ্রের বিএমওএইচ 
ডাঃ আনন্দমোহন গড়াই জানিয়েছেন, জামালপুরের আঝাপুরের প্রায় ৭০ জনের একটি দল গত ১৩ মার্চ সিমলা ,কুলু ও মানালি বেড়াতে যান। শুক্রবার রাতে খবর আসে ৭দিনের ট্যুর সেরে ওই পর্যটকরা ডাউন  কালকা মেলে চড়ে বর্ধমানে ফিরছেন। শনিবার সকালে বর্ধমান  স্টেশানে নেমে তারা লোকাল ট্রেনে চড়ে মসাগ্রামে নামবে । সেই খবর মেলার পরেই ওই পর্যটকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা  না করে ছাড়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিন সাত সকালে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ব্লক হাসপাতালের চিকিসক পার্থসারথী সিংহ ও স্বাস্থ্য কর্মীরা মসাগ্রাম স্টেশান চত্ত্বরে হাজির হয়েযান । চিকিৎসক পার্থসারথী  সিংহ জানিয়েছেন , পর্যটকদের 
 প্রত্যেকেরই বাড়ি আঝাপুর এলাকায় । ওই 
পর্যটকদের সকলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পাশাপাশি থার্মাল ক্লিনিং করা হয়েছে।  কারুর শরীরেই  অবশ্য এদিন করোনা সংক্রমণের লক্ষণ দেখাযায়নি । তবে যেহেতু ভিন রাজ্য ঘুরে তারা ফেরত এসেছেন তাই তাদের আগামী  ১৪ দিন বাড়িতেই কোরান্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে  ।যদিও আঝাপুর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা লিখিত ভাবে এদিন  বিএমওএইচ কে জানিয়েছেন ,ভিন রাজ্যে বেড়ানো সেরে ফেরত আসা ব্যক্তিরা কেউ বাড়িতে থাকছেন না ।  ফিরে এসেই তারা এলাকায় অবাধে ঘোরাফেরা শুরু করে দিয়েছে ।সেকারণে  আঝাপুরের অনেক  বাসিন্দাই  আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন । এবিষয়ে বিএমওইচ জানিয়েছেন , চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে ওই ব্যক্তিরা না চললে প্রয়জনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে ।  


করোনা আতঙ্কের মাঝে পূর্ব বর্ধমানে অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্র খোলা থাকা নিয়ে উদবেগে অবিভাবকরা

No comments

Monday, March 16, 2020


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) :- মারণ ভাইরাস করোনা সতর্কতায় ৩১ মার্চ পর্যন্ত  রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ আগেই দিয়েছিল রাজ্য সরকার।সোমবার ফের ঘোষনা করা হয় ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে  রাজ্যের  সমস্ত  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।পূর্বের নির্দেশ মেনে এদিন  পূর্ব বর্ধমানের সমস্ত স্কুল,কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকে । কিন্তু  নির্দেশ না মেলায় এদিন দিব্যি চালু থাকে জামালপুর সহ জেলার  অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রগুলি।এদিন সকালেই খুদে পড়ুয়া সহ দিদিমনিরা হাজির হয়েযান সেন্টারে।খুদে পড়ুয়াদের পড়ানো ও সেন্টারে  খাবার রান্না করে খাওয়ানো সবই চললো  নিয়ম মেনেই ।এই ঘটনা নিয়ে উদবেগ বেড়েছে পড়ুয়াদের অবিভাবকদের । অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দের দিদিমনিরা জানিয়েছেন 
,অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্র বন্ধ রাখতে হবে না খোলা রেখে কাজ চালিয়ে যেতে হবে এমন কোন নির্দেশিকা এখনও তারা হাতে পান নি । কি করবেন সেই বিষয়ে  সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েগেছেন। জামালপুরের বকুলতলার অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রের দিদিমনি অভয়া অধিকারী এদিন জানান ,প্রশাসনের কর্তারা  কি সিদ্ধান্তের কথা জানান এখন সেদিকেই তারা সকল  দিদিমনিরা  তাকিয়ে রয়েছেন । 
কোরানা ভাইরাস আতঙ্কে কাঁপছে  গোটা বিশ্ব ।মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এদিনই করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে আউশগ্রামের এক বাসিন্দাকে বর্ধমান  মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আইসোলেশন  ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে । করোনা ভাইরাস আতঙ্কে ভাতারের নারায়নপুর উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ের  সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন । সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে রাজ্য সরকারের নির্দেশে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ,এস এসকে , এম এসকে এমনকি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।কিন্তু অঙ্গনওয়াড়ী বিষয়ে সুষ্পষ্ট কোন নির্দেশিকা না থাকায় বাধ‍্য হয়েই সেন্টার চালাচ্ছেন দিদিমনিরা । অন্যদিকে  রাজ্য সরকারের নির্দেশকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জামালপুরে কয়েকটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলেও ছুটি ঘোষণা করেনি  । এদিন সেইসব স্কুলে পঠন পাঠন  জারি রাখা হয় । এমনই একটি বেসরকারী স্কুলের শিক্ষক সৈয়দ আবুল ইসলাম এদিন বলেন অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করার পর তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন স্কুল খোলা রাখা হবে না বন্ধ করে দেওয়া হবে। 
যদিও এদিন বিকালে  মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষনার পরেই জামালপুর  ব্লকের বিডি শুভঙ্কর মজুমদার  জানিয়েদেন অঙ্গনওয়ড়ী সহ সরকারী বেসরকারী সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখতে  হয়ে । বাচ্চাদের খাবার বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে । অন্যথা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে । 

তৃণমূল নেত্রীর অজ্ঞাতে জামালপুর বিধানসভা আসনে তৃণমূল প্রার্থীর নাম ঘোষনা নিয়ে ক্ষোভ তৃণমূল শিবিরে

No comments

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) :- যেন সেনাপতিতে অন্ধকারে রেখেই সৈন্য নির্বাচন কাণ্ড।এই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের এখনও ঢের দেরি রয়েছে।তার আগে তৃণমূল নেত্রীর অজ্ঞাতেই ঘোষনা করে দেওয়াহল ২৬২ জামালপুর(তপঃ ) বিধানসভা আশনের তৃণমূল প্রর্থীর নাম।আর এই ঘোষনা নিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের অন্দরে  ব্যাপক শোরগোল পড়েগেছে।দলের নিয়ম কানুন না মেনেই  প্রার্থীর নাম ঘোষনা করা হয়েছে বলে  অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলেরই একাংশ।তারা এই ঘোষনার বিষটি নিয়ে তৃণমূলের উর্ধ্বতন নেতৃত্বেরও  দৃষ্টি  আকর্ষণ করেছে । 
বাংলার গর্ব মমতা কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবে  রবিবার জামালপুরের চকদিঘীর তৃণমূল  পার্টি অফিসে স্বীকৃতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সেই সম্মেলনে জেলা তৃণমূল যুব কার্যকরী  সভাপতি শ্রীমন্ত রায় ,ব্লক তৃণমূল সভাপতি অরবিন্দ ভট্টাচার্য্য এবং গত বিধানসভা নির্বাচনে জামালপুর  বিধানসভা আশনে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল প্রামাণিক উপস্থিত থাকেন। সম্মেলনে বহু কর্মী সমর্থক ও  নেতা নেত্রী যোগদেন করেছিলেন ।ওই সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে উঠে  শ্রীমন্ত রায় ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে জমালপুর বিধানসভা আশনে প্রতিদ্বন্দ্বী  তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে উজ্জ্বল প্রামাণিকের  নাম তুলে ধরেন । শ্রীমন্ত ঘোষনা করেন “২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে আমরা আমাদের প্রার্থী উজ্জ্বল প্রামাণিককের হয়ে লড়াইয়ে নামবো। ২০২১ নির্বাচনে উজ্জ্বল  প্রামাণিককে জয়ী করে আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে যাবো।” সম্মেলনে উপস্থিত সকলে করতালি দিয়ে শ্রীমন্ত রায়ের এই ঘোষনাকে  স্বাগত জানান । প্রার্থীর নাম ঘোষনার বিষটি আবার  সোশ্যাল মিডিয়াতেও  ছড়িয়ে দেওয়া হয় । আর এর পরেই শোরগোল পড়েযায় জেলা তৃণমূলের অন্দরেই।ক্ষোভ বিক্ষোভ তৈরি হয়েছে  জামালপুরে উজ্জ্বল বিরোধী শিবিরের নেতা ও কর্মী মহলেও  । 
এই ঘোষনা বিষয়ে সোমবার শ্রীমন্ত রায়ের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন ,২০১১ও ২০১৬ সালে উজ্জ্বল প্রামাণিক দলের প্রার্থী হয়েছিলেন ।তাহলে তাঁকে প্রার্থী বলায় আমার কি  ভুল হয়েছে বলতে পারবো না । আমার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করা হলে আমার কিছু করার নেই । যদিও  উজ্জ্বল প্রামাণিক পরিস্কার  জানিয়েদেন , শ্রীমন্ত ভুল করে বলে থাকতে পারে । বিধানসভা ভোটের এখনও অনেক দেরি আছে । কে প্রার্থী হবে সেটা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক করবেন । আবেগে  কে কি বলেছে সেটাকে গুরুত্ব দেবার কিছু আছে বলে  আমি মনেকরি না । একই সঙ্গে উজ্জ্বল বাবু বলেন , যারা ভুল ধরিয়ে দিয়েছে তাদের  আমি  সাধুবাদ জানাচ্ছি । 
প্রসঙ্গত রাজ্য রাজনীতিতে পালা বদলের সময়ে ২০১১ সালে জামালপুরের  তৃণমূল প্রর্থী হয়ে ভোটে লড়েন উজ্জ্বল প্রামাণিক । সেবার তিনি জয়ী হন। এরপর কয়েক বছর যেতে  না যেতেই উজ্জ্বল প্রামাণিকের সঙ্গে জামালপুরের যুব তৃণমূল নেতা মেহেমুদ খানের সম্পর্কে ফাটল ধরে। গোষ্ঠী কোন্দলের  জরে  ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে জামালপুর আশনটি  তৃণমূলের হাতছাড়া হয় । বাম প্রার্থী সমর হাজরার কাছে পরাজিত হন উজ্জ্বল বাবু ।অন্যদিকে মেহেমুদ  খান এখন জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পদে  দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। সামনেই পুরসভা ভোট । তার পরেই বছর ঘুরলে হবে বিধানসভা নির্বাচন । কিন্তু  আজ অবধী দুই নেতার বিরোধ জিয়েই রয়েছে । গোষ্ঠী কোন্দল মেটানোর কোন উদ্যোগও দলীয় স্তরেও নেওয়া হয়নি।এমন পরিস্থিতির  মধ্যে শুধুমাত্র  জামালপুর আশনে প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রার্থীর নাম আগাম ঘোষনা করা হয়।  তার পরথেকে  জামালপুরে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল আরো বেআব্রু হয়ে পড়েছে । 
এদিন মেহেমুদ খান বলেন, তৃণমূল  কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে আজ অবধি যত ভোট হয়েছে সব ভোটেই  দলনেত্রী  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করেছেন। রবিবার যিনি  জামালপুর বিধানসভা আসনে তৃণমূল প্রার্থীর  নাম ঘোষনা করেলেন তিনি দল বিরোধী কাজ করেছেন।উনি হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
থেকেও  উর্ধ্বে যেতে চাইছেন । 


দোলের পরদিন ঘটাকরে অনুষ্ঠিত হল বর্ধমানের জোড়া রাধাবল্লভের দোল উৎসব

No comments

Tuesday, March 10, 2020


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) :- র্ধমান জেলা তথা অধুনা পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রাণকেন্দ্র ও রাঢ়বঙ্গের অন্যতম প্রাচীন নগর বর্ধমানের দোল উৎসব আজও একটি সুপ্রাচীন ঐতিহ্য বহন করে নিয়ে চলেছে । এখানে দোল উৎসব পালিত হয় দোল পূর্ণিমার পরের দিন ।রাজা না থাকলেও শতাব্দী প্রাচীন রাজরীতি মেনেই এই উৎসব পালন করে থাকে বর্ধমানবাসী। কথিত আছে বর্ধমানের মহারাজা  বিজয় চাঁদ মহতাব এই প্রথা চালু করেণ । প্রথম দিন বর্ধমানের অধিষ্টাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলা দেবীর দোল , দোল পূর্ণিমা তিথি ঠাকুর দেবতার দোল উৎসবের দিন এবং সেদিন শুধুমাত্র দেব-দেবীর রাঙা চরণ আবির ও কুমকুমে চর্চিত হবে একই সাথে রাজবাড়ির অন্দর মহলেও খেলা হবে দোল  ।
পরের দিন অনুষ্ঠিত হবে মানব সাধারণের রঙের উৎসব । সেই রীতির আজও সার্থক উত্তরাধিকারী বর্ধমানের মানুষ । ঐতিহ্য মেনে আজও দোল পূর্ণিমা তিথিতে প্রাচীন  বর্ধমানের প্রানকেন্দ্র সর্ব্বমঙ্গলা বাড়িতে দোল উৎসব পালিত হয় এবং বর্ধমানবাসী পরের দিন দোল উৎসব পালন  করে । সেই চিরাচরিত  ঐতিহ্য মেনেই দোল উৎসবের পরদিন  জোড়া রাধাবল্লভের দোল উৎসবে মাতলো পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের রাধাবল্লভবাটি মৌজা এলাকার বাসিন্দারা । দীর্ঘ প্রায় চারশো বছর ধরে জোড়া রাধাবল্লভ পূজিত হয়ে  আসছেন  জামালপুরের রায় পরিবারের মন্দিরে ।  রাধাবল্লভের চরণে আবির দিয়ে  শুক্রবার বিকালে  রঙের উৎসবে মাতলেন জামালপুর বাসি । মন্দির প্রাঙ্গনে বসেছে মেলা । পুজো দেখতে আশপাস এলাকারও  বহু মানুষ এদিন মন্দির প্রাঙ্গনে  জড়ো হন । বর্ধমান জেলায় আজও অন্যতম ঐতিহ্যের সাক্ষ বহন করেচলেছে জোড়া রাধাবল্লভের দোল উৎসব ।
জোড়া রাধাবল্লভের দোল উৎসব ঘিরে প্রচলিত রয়েছে নানা লোককথা । জামালপুরের রায় পরিবারের সদস্য প্রশান্ত কুমার রায় জানালেন , তাদের পূর্ব পুরুষরা ছিলেন রাজপুত । প্রায় চার  শতাধিক বছর কাল আগে রাজস্থান থেকে বর্ধমানে বানিজ্য করতে এসেছিলেন তাদের রাজপুত সিংহ বংশিয় এক পূর্ব পুরুষ ।  বর্ধমান জেলার জামালপুরে  তিনি আস্তানা গাড়েন । শত্রু আক্রমণ ঠেকাতে  গড় কাটা হয় আস্তানার চারপাশ জুড়ে  ।  সেই গড়কাটার সময় মাটি থেকে উদ্ধার হয় রাধাকৃষ্ণের অষ্টধাতুর একটি  মূর্তি । রাধাকৃষ্ণ মূর্তিটি রাজপুত পরিবারের কাছে  রাধাবল্লভ নামে পরিচিতি পায় । আস্তানা এলাকায়  ছোট্ট একটি মন্দির গড়ে রাধাবল্লভের মূর্তির পুজোপাঠ শুরু করে রাজপুত  পরিবার ।  সেই সমসাময়িক কালেই কোন এক বৈষ্ণব সাধক ওই মন্দিরের সামনে কষ্টিপাথরের কৃষ্ণ মূর্তি এবং অষ্ট ধাতুর রাধা মূর্তি ফেলে রেখে দিয়ে চলে যান ।
সেই থেকে  দোল উৎসবের পরদিন প্রতিপদ তিথিতে জোড়া রাধাবল্লভের মূর্তির পুজোপাঠ হয়ে আসছে  রাধাবল্লভ মন্দিরে । প্রশান্ত বাবু জানালেন পূর্বতন বর্ধমান মহারাজা জামালপুরের  কয়েকটি মৌজা এলাকার জমিদারি দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছিলেন তাদের পূর্ব পুরুষদের । সেই সময় কালেই  রাধাবল্লভ কে স্মরণ করে এখানকার জমিদারি মৌজা রাধাবল্লভবাটি মৌজা নামে পরিচিতি পায় । বর্ধমান মহারাজা  কর্তৃক রায়  উপাধিতে ভূষিত হয়  রাজস্থান থেকে জামালপুরে আস্তানা  গাড়া সিংহ পরিবার ।   ভক্তিতে ভর করেই জোড়া রাধাবল্লভের দোল উৎসবের দিনেই  রঙের উৎসবে মাতেন জামালপুরের রাধাবল্লভবাটি মৌজার বাসিন্দারা ।
রায় পরিবারের অপর সদস্য পার্থপ্রতিম রায় জানালেন ,  দোল পূর্ণিমার দিন রাধাবল্লভ  মন্দির প্রাঙ্গনে পরিবারের সকল সদস্য মিলে চাঁচর পোড়ান । পূর্ণিমার পর দিন প্রতিপদ তিথিতে বংশের মন্দিরে হয় রাধা বল্লভের পুজোপাঠ । পার্থপ্রতিম বাবু বলেন , রাধাবল্লভের ভোগ অন্নে শুক্তো   চাই । এদিন সকাল থেকে শুরু হয় পুজোপাঠ ।  রাধাবল্লভের চরণে আবির দিয়ে বিকালে  মন্দির চত্ত্বরে এলাকাবাসী আবির খেলায় মাতেন । সন্ধ্যায় বিতরণ করা হয় অন্ন ভোগ ।

অ্যাডমিট কার্ড আনতে না গিয়ে আত্মঘাতী উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষার্থী । চাঞ্চল্য জামালপুরে

No comments

Wednesday, March 4, 2020


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) :- রীক্ষার ভীতিতে অ্যাডমিট কার্ড আনতে যাবার দিনেই আত্মঘাতীহল এক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। বুধবার বেলায় ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার মসাগ্রামে । মৃতার নাম দুর্গা বসু (১৮)। মসাগ্রামের লাইনপাড় এলাকার বাড়ি ছাত্রীর।এদিন বেলায় বাড়ির ভিতরকার দরজা বন্ধ একটি ঘরথেকে উদ্ধার হয় ছাত্রীর দেহ।পরিবার পরিজন ও প্রতিবেশীরা  দরজা ভেঙে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে জামালপুর ব্লক স্বাস্থকেন্দ্রে নিয়েযায় । সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক  ছাত্রীকে মৃত ঘোষনা করেন। পুলিশ ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।   
মৃতা দুর্গা বসু জামালপুরের নবগ্রাম পুলিনবিহারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী । তার বাবা সঞ্জিত বসু জানিয়েছেন , দুর্গা এই বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী।এদিন স্কুল থেকে মেয়ের  উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড আনতে যাবার কথা ছিল। তার জন্য সকালেই দুর্গা প্রয়োজনীয় অর্থ তাঁর কাছ থেকে চেয়ে নেয় ।
সঞ্জিত বাবু বলেন , মেয়ে স্কুলে যাবার আগে তিনি ও তাঁর স্ত্রী সীমা আত্মীয়র  বাড়ি  যাবার জন্য রওনা হন । ছেলে চয়ন ও মেয়ে দুর্গা বাড়িতে ছিল। বেলায়  ছেলে বাড়ির বাইরে বের হবার পর দুর্গা ভিতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধকরে গলায় ওড়নার ফাঁস  দিয়ে  সিলিং ফ্যানে ঝুলে পড়ে । ছেলে চয়ন খানিক বাদে বাড়ি ফিরে বোনকে ঝুলতে দেখে চিৎকার জুড়ে দেয় ।প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দুর্গাকে উদ্ধার করে দ্রুত  হাসপাতালে নিয়েযায় । কিন্তু মেয়েকে আর প্রাণে বাঁচানো যায়নি ।পরিবার সদস্যরা  মনেকরছেন ,পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো না হওয়ায় ফেল করেযেতে পারে এমন ভীতি তৈরি হওয়াতেই  হয়তো  দুর্গা এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে । যদিও প্রকৃত কি কারণে দুর্গা আত্মঘাতী হল তা নিয়ে রহস্য রয়েই গেছে ।অস্বাভাবিক  মৃত্যুর মামলা রুজু করে জামালপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে । 



পাচারের উদ্দেশ্যে রেশনের প্রচুর আটা অবৈধভাবে আটক করার অভিযোগে গ্রেফতার দুজন

No comments

Tuesday, February 18, 2020


বর্ধমান ( প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ) :- বৈধ ভাবে রেশনের আটা  গোডাউনে মজুত করার অভিযোগে  দুজনকে গ্রফতার করলো  দূনীতিদমন শাখা। সোমবার সন্ধ্যায় দূর্নীতি দমন শাখার টিম  পূর্ব বর্ধমানের  জামালপুর থানার হালাড়া গ্রামের দুটি  গোডাউনে হানা দেয় । সেখান থেকে  রেশনের প্রচুর আটার প্যাকেট মেলে । এরপরেই পাচারের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে গাডাউনে আটি মজুত করার অভিযোগে শেখ মহিরুদ্দিন ও শঙ্কর ঘোষ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।  ধৃত দুজনেরই বাড়ি হালাড়া গ্রামে ।  বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে গোডাউনে মজুত রেশনের সমস্ত  আটা ।  মঙ্গলবার ধৃতদের পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে । বিচারক ধৃতদের জামিন নামাঞ্জুর করে বিচার বিভাগীয় হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন । দুর্নীতিদমন শাখা সূত্রে জানগেছে ,হালাড়া গ্রামের দুটি  গোডাউনে অবৈধ ভাবে রেশনের আটা মজুত করার খবর দফতরে পৌছায় । সোমবার অভিযান চালিয়ে শঙ্করের  গোডাউন থেকে ৫০ কেজির ৮০টি বস্তা, ৯৫০ গ্রামের ১২০ প্যাকেট, ৪৭৫ গ্রামের ১৬০টি প্যাকেট ও ৪৭টি খোলা প্যাকেট উদ্ধার হয়েছে । পর ধৃত  মহিরুদ্দিনের গোডাউন থেকে  ৫০ কেজির ১২০টি বস্তা, ৯৫০ গ্রামের ৭০টি প্যাকেট ও ৪৭৫ গ্রামের ২৫০টি প্যাকেট উদ্ধার হয়েছে ।  দূর্নীতিদমন শাখার আধিকারিকদের দাবি  বাজেয়াপ্ত করা সমস্ত আটার পরিমাণ  ১০ টন ৩ কুইন্ট্যাল ৮০ কেজি।




রুপশ্রী প্রকল্পের টাকা আটকে দিল ব্যাঙ্ক

No comments

Monday, February 17, 2020


বর্ধমান ( প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ) :- বাবা ঋন শোধ করতে না পারায় মেয়েকে রুপশ্রী প্রকল্পের টাকা দিতে অস্বীকার করার  অভিযোগ উঠলো রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যঙ্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে । ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের কালাড়া গ্রামে। সুবিচার চেয়ে  বিডিওর   দ্বারস্থ হয়েছে সদ্য বিয়ে হওয়া তরুণী শিউলি  মালিক।ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তরুণীকে রুপশ্রী প্রকল্পের টাকা দিতে অস্বীকার করায়  নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন । এরপরেই ভোল বদলাতে বাধ্য হল  ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ।  
কাড়ালা গ্রামে অ্যাজবেসটার্স চালার দু‘কুটুরি ঘরে বসবাস করে বিপিএল তালিকা ভুক্ত  মালিক পরিবার । এই পরিবারেরই মেয়ে শিউলি মালিক । তাঁর বাবা  দিলিপ মালিক ১০০ দিনের কাজ করার পাশাপাশি অপরের সামান্য জমি ভাগে নিয়ে চাষকরেন । ২০১৩ সালে কাড়ালার একটি রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাঙ্ক থেকে  ২০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ নেন  দিলিপ বাবু । এর কিছুদিন পরেই তিনি বড়সড় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। অস্ত্রপচার হওয়ায় পর দীর্ঘদিন তিনি চিকিৎসাধীন থাকেন। দিলিপ মালিক বলেন , দুর্ঘটনায় জখম হবার পর তিনি কাজ কর্ম আর সেভাবে  করতে পারতেন না ।
  তারই মধ্যে ১০০ দিনের কাজ করে যে ৬ হাজার টাকার মতো পেয়েছিলেন  তা  ব্যাঙ্কেই জমা রয়েছে।  বাকি টাকা আর শোধ করতে পারেন নি ।ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানিয়ে দেয়  চলতি বছর পর্যন্ত সুদ ও আশল বাবাদ তাঁর কাছ থেকে ব্যাঙ্কের পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায়  ৩৫ হাজার টাকা ।
পাবিবারিক এই আর্থিক পরিস্থিতির মধ্যেই ২০১৯ সালে  দিলিপ মালিক  নিজের মেয়ে  শিউলির বিয়েদেবার বিষয়ে মনস্থির  করেন । বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রায় লক্ষাধীক টাকা দেনা করে ওই বছরের  ১ ডিসেম্বর তিনি তাঁর  মেয়ে শিউলির বিয়ে দেন । দিলিপ বাবু বলেন, বিয়ের আগে রুপশ্রী প্রকল্পের টাকা পাবার জন্য তাঁর মেয়ে  শিউলি সরকারী  নিয়ম মেনে আবেদন করে।  সেই প্রকল্পের টাকা গত  ১২ ফেব্রুয়ারি কাড়ালার  একই  রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাঙ্কে থাকা মেয়ের নিজস্ব অ্যাকাউন্টে  জমা পড়ে । মেয়ে শিউলি গত শুক্রবারের পর এদিন সোমবারও ব্যাঙ্কে গিয়ে ওই টাকা তুলতে যায়। কিন্তু ব্যাঙ্ক ম্যানেজার দেবাংশু সেন ও এক মহিলা ব্যাঙ্ক কর্মীর  দুর্ব্যাবহার হজম  করে খালি হাতে মেয়েকে বাড়ি ফিরতে হয় ।  

শিউলি  মালিক এদিন বলেন , অর্থের অভাবে গরিব পরিবারের  মেয়েদের বিয়ে যাতে আটকে না যায় সেকথা ভেবে  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রুপশ্রী প্রকল্প চালু করেন। সেই বিয়টি মাথায় রেখে  তাঁর  বাবার তার বিয়ে ঠিক করার পরেই  সে রুপশ্রী প্রকল্পের টাকা পাবার জন্য আবেদন করে ।  রাজ্য সরকার সেই টাকা অনুমোদনও করেছে । শিউলি বলেন , গত ১২ ফেব্রুয়ারি তাঁর নিজের অ্যাকাউন্টে  রুপশ্রী প্রকল্পের টাকা ঢুকেছে । বিয়েতে  বাবা যে ধারদেনা করেছিল তা শোধ করার জন্য এদিনও  ব্যাঙ্কে যান । টাকা তোলার জন্য ব্যাঙ্কে আবেদন করেন । শিউলি জানান , ব্যাঙ্ক ম্যানেজার দেবাংশু সেন ও এক মহিলা ব্যাঙ্ক কর্মী তাকে স্পষ্ট জানিয়েদেন ‘আমার বাবা কৃষি  ঋণের পুরো টাকা শোধ না করলে আমাকে রুপশ্রী প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে না । ’ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ কার্যত তাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেয় । শিউলি বলেন, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের  কাছে দুর্ব্যাবহার পাবার পর একান্ত নিরুপায় হয়ে তিনি  রুপশ্রী প্রকল্পের টাকা পাবার জন্য ব্লকের বিডিওর কাছে  সবিস্তার অভিযোগ  জানিয়েছেন ।
 বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার  জানিয়েছেন, রুপশ্রী প্রকল্পের টাকা ব্যাঙ্ক আটকে রাখতে পারবে  না। শিউলি মালিকের অভিযোগের বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি । জেলা শাসক বিজয় ভারতি বলেন , ওই রাষ্টায়াত্ব ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের  বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে । 
এদিকে শিউলির অভিযোগের ভিত্তিতে  প্রশাসন নড়েচড়ে বসতেই ভল বদলায় কাড়ালার  রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ । ব্যাঙ্কের সহকারি ম্যানেজার মহম্মদ শাজাহান বলেন , রুপশ্রী  প্রকল্পের টাকা আটকানো হয়নি । শিউলি মালিকের বাবা দীর্ঘ দিন ধরে ব্যাঙ্ক লোনের টাকা শোধ করছেন না। শিউলির বাবা যাতে ব্যাঙ্ক লোন শোধ করেন তার অনুরোধ করা হয়েছে । শিউলিকে তাঁর প্রাপ্য টাকা দিয়ে দেওয়া হবে । দুর্ব্যবহারের অভিযোগ সদ্য নয় বলে সহকারী ব্যাঙ্ক ম্যানেজার জানিয়েছেন । 


loading...
Don't Miss
© all rights reserved
By SDK IT SOLUTION